ঘরে বসে ই-পাসপোর্টের আবেদন ও পেমেন্ট করবেন যেভাবে | How to apply online for E-Passport

0
504

ঘরে বসে ই-পাসপোর্টের আবেদন ও পেমেন্ট করবেন যেভাবে | How to apply online for E-Passport

বহু প্রতিক্ষার পর বাংলাদেশে চালু হল ই-পাসপোর্ট । কিভাবে নিজে নিজে ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে আবেদন ও পেমেন্ট করতে হবে তার বিস্তারিত আজকের পোস্টে আলোচনা করা হবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে ১১৯তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ডিআইপি ডটগভ ডটবিডির তথ্য অনুযায়ী, ই-পাসপোর্ট হলো একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে একটি এমবেডেড ইলেকট্রনিক চিপ রয়েছে। এ চিপের মধ্যে রয়েছে বায়োমেট্রিক তথ্য, যা পাসপোর্টধারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ব্যবহার করা হয়। এতে মাইক্রোপ্রসেসর বা চিপ এবং অ্যান্টেনাসহ স্মার্টকার্ড প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। পাসপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চিপে সংরক্ষণ করা হয়। ই-পাসপোর্টে যেসব বায়োমেট্রিক তথ্য নেয়া হয় সেসব হলো—ছবি, আঙ্গুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) ও আইরিশ। ইলেকট্রনিক বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থা (ই-বর্ডার) দিয়ে পাসপোর্ট চিপের বাইরের বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোর তুলনামূলক যাচাই করা হয়। পাবলিক কি ইনফ্রাষ্ট্রাকচােরর (পিকেআই) মাধ্যমে পাসপোর্ট চিপে থাকা তথ্য যাচাই করা হয়। তাই জালিয়াতি করা কঠিন। 

সাধারণ পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্টের পার্থক্য হলো, এতে মোবাইল ফোনের সিমের মতো ছোট ও পাতলা আকারের চিপ থাকে। এতে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য থাকবে, যার অনেক বৈশিষ্ট্য থাকবে লুকানো অবস্থায়। ই-পাসপোর্ট করার সময় মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) তথ্যভাণ্ডারে পাওয়া তথ্যগুলো ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে। 

আরো পডুন:- ঘরে বসে NID কার্ড সংশোধন করবেন যেভাবে

ই-পাসপোর্টের ধরন:-

একটি ৪৮ পাতার, অন্যটি ৬৪ পাতার। মেয়াদের দিক থেকেও থাকছে ৫ বছর ও ১০ বছর। সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরির জন্য ফি তিন ধরনের। দুই দিনের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়ার নিয়ম চালু হয়েছে। এ জন্য ফিও বেশি গুনতে হবে।

ই-পাসপোর্টের ফি সমূহ:- নিম্নোক্ত হারে পাসপোর্ট ফি প্রযোজ্য হবে ( ১৫% ভ্যাট সহ ) :

  • ৪৮ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
  • ২১ কর্মদিবসের মধ্যে নিয়মিত বিতরণ: ৪,০২৫ টাকা
  • ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জরুরী বিতরণ: ৬,৩২৫ টাকা 
  • ২ কর্মদিবসের মধ্যে অতীব জরুরী বিতরণ: ৮,৬২৫ টাকা 
  • ৪৮ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
  • ২১ কর্ম দিবসের মধ্যে নিয়মিত বিতরণ: ৫,৭৫০ টাকা
  • ১০ কর্মদিবসের মধ্যে  জরুরী বিতরণ: ৮,০৫০ টাকা
  • ২ কর্মদিবসের মধ্যে অতীব জরুরী বিতরণ: ১০,৩৫০ টাকা
  • ৬৪ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
  • ২১ কর্মদিবসের মধ্যে নিয়মিত বিতরণ: ৬,৩২৫ টাকা
  • ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জরুরী বিতরণ: ৮,৬২৫ টাকা
  • ২ কর্মদিবসের মধ্যে অতীব জরুরী বিতরণ: ১২,০৭৫ টাকা
  • ৬৪ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
  • ২১ কর্মদিবসের মধ্যে নিয়মিত বিতরণ: ৮,০৫০ টাকা
  • ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জরুরী বিতরণ: ১০,৩৫০ টাকা
  • ২ কর্মদিবসের মধ্যে অতীব জরুরী বিতরণ: ১৩,৮০০ টাকা
  • বি:দ্র: যাদের এনওসি /অবসর সনদ (সরকারি চাকরিজীবিদের ক্ষেত্রে) রয়েছে তারা নিয়মিত ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে জরুরী সুবিধা পাবেন।

আরো জানুন:- ই-পাসপোর্টে নতুন কি কি থাকছে?

  • ই-পাসপোর্টের জন্য ফি পরিশোধ করবেন যেভাবে:-

ই-পাসপোর্ট আবেদনের ফি নির্ধারিত ব্যাংকে পেমেন্ট করা যায়। নির্ধারিত ব্যাংকগুলি – ঢাকা ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক। এছাড়াও অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ই-চালানের মাধ্যমেও ফি পরিশোধ করা যায়। অনলাইনে পেমেন্ট করার জন্য আপনার ব্রাউজারের পপ-আপ ব্লকার অক্ষম করতে হবে। 

আবেদন করবেন যেভাবে

ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে গিয়ে আবেদন করা যাবে। সাইটে বাংলা বা ইংরেজি ভাষা নির্বাচন করে নেওয়ার সুবিধা আছে। সেখানে শুরুতেই অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন: নতুন/রি-ইস্যু বাটন পাওয়া যাবে। এখানে ক্লিক করে সরাসরি আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। এর আগে এখানে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন ই-পাসপোর্ট আবেদনের ৫টি (পাঁচ) ধাপ।

ই-পাসপোর্টের অনলাইনে আবেদন ও ফি জমার সরাসরি সিস্টেম জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন।

সবাসরি আবেদন করে দেখানো হয়েছে

ই-পাসপোর্ট আবেদনের জন্য নিম্মবর্ণিত কাগজপত্রের প্রয়োজনঃ

 ১. প্রিন্টকৃত আবেদন ফরম।

 ২. জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল ও ফটোকপি।

 ৩. পূর্বের পাসপোর্ট ও এর ফটোকপি (যদি থাকে)।

 ৪. ১৮ (আঠার) বছরের নিম্মে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ ও পিতামাতার এনআইডি।

 ৫. ০৬ (ছয়) বছরের নিম্মে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ‘3R’ আর সাইজের ছবি।

 ৬. ১৫ (পনের) বছরের নিম্মে আবেদনকারীদের পিতা-মাতার ছবি অথবা বৈধ অভিভাবকের পাসপোর্ট সাইজের ছবি ।

তথ্য/তথ্যাবলি পরিবর্তন করতে সংশ্লিষ্ট দলিলাদি দাখিল করতে হবে যেমন :

স্থায়ী ঠিকানা, বৈবাহিক অবস্থা, পেশা অথবা অন্যান্য তথ্যাদি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দলিলাদি দাখিল করতে হবে।

আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে কি কি কাগজপত্র সাথে আনবেন, তাহলে আপনার নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন

অনলাইন চেক

ই-পাসপোর্ট পোর্টালে ‘স্ট্যাটাস চেক’ করা যাবে। জন্মতারিখ ও আবেদনের ক্রমিক সংখ্যা দিয়ে সার্চ অপশনে ক্লিক করতে হবে। আপনার অনলাইন পোর্টাল অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার সব আবেদনের অবস্থা দেখতে পারেন। 

ইউটিউবে আমাদের সাথে সংযুক্ত হতে আমাদের চ্যানেলটি এখনি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

How to apply online for E-Passport

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here